আঁচিল তোলার আধুনিক চিকিৎসা; পূর্ণাঙ্গ গাইড

আঁচিল তোলার আধুনিক চিকিৎসা

আঁচিল কী? শরীরের কোথায় হয়, কারণ, প্রকারভেদ ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে পূর্ণাংঙ্গ গাইড

আঁচিল হলে কী করবেন, কীভাবে চিনবেন আর কোন চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর? এসব প্রশ্ন নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। আঁচিল হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) সংক্রমণে হওয়া ত্বকের একটি ছোঁয়াচে সমস্যা, যা মুখ, গলা, হাত, আঙুল ও যৌনাঙ্গে দেখা দিতে পারে।

এই ব্লগে পাবেন আঁচিলের ধরন, কারণ, আঁচিল, তিল ও স্কিন ট্যাগের সঙ্গে পার্থক্য এবং খুঁটলে বা কাটলে কী ক্ষতি হয় সেসব তথ্য। সেই সাথে জানবেন লেজার, প্লাজমা পেন ও ইলেকট্রোক্যাটারির মতো আধুনিক চিকিৎসায় কীভাবে আঁচিল দূর করা যায়, খরচ ও প্রতিরোধের উপায়।

Table of Contents

আঁচিল বা Warts কী?

আঁচিল হলো ত্বকের ওপর তৈরি হওয়া ছোট, শক্ত বা উঁচু গুটি, যা সাধারণত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (Human Papillomavirus বা HPV) সংক্রমণের কারণে হয়। এই ভাইরাস ত্বকের ওপরের স্তরে সংক্রমণ ঘটালে সেখানকার কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, ফলে ত্বকের ওপর ছোট গুটি বা আঁচিল তৈরি হয়।

আঁচিল দেখতে কেমন এবং শরীরের কোথায় হয়?

আঁচিল দেখতে সাধারণত খসখসে, শক্ত ও ছোট দানার মতো হয়, তবে কিছু ধরনের আঁচিল মসৃণ ও চ্যাপ্টাও হতে পারে। রং সাধারণত ত্বকের মতোই হয় আবার কখনো হালকা বাদামি, ধূসর বা কালচে দেখাতে পারে। এইচপিভি (HPV) ভাইরাসের সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচিলের উপস্থিতি ও রূপ ভিন্ন হতে দেখা যায়। নিচে উল্লিখিত স্থানগুলোতে এটি সাধারণত যেভাবে আত্মপ্রকাশ করে:

শরীরের যেসব স্থানে আঁচিল হয়: 

  • মুখে: মুখের আঁচিলগুলো সাধারণত একটু চ্যাপ্টা বা মসৃণ (Flat Warts) হয়ে থাকে। ত্বকের রঙের সাথে মিশে থাকায় অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না।
  • কপালে: কপালে সাধারণত চ্যাপ্টা ও ছোট ছোট দানার মতো আঁচিল বেশি দেখা যায়। দলবেঁধে একসঙ্গে অনেকগুলো গজাতে পারে।
  • চোখের পাতায়: চোখের পাতার আঁচিলগুলো বেশ স্পর্শকাতর। এগুলো আঙুলের মতো সরু হয়ে ঝুলে থাকে, যা পাপড়ি ফেলা বা চোখ বন্ধ করার সময় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
  • চোখের আশপাশে: চোখের চারপাশে ছোট ছোট গুটির মতো বা সূক্ষ্ম আঁচিল দেখা দেয়। খসখসে ভাব কম হলেও এটি দেখতে বেশ স্পষ্ট লাগে।
  • কানের আশপাশে: কানের চারপাশে বা কানের পেছনে চামড়ার ভাজে ছোট ছোট শক্ত ফুসকুড়ির মতো আঁচিল হতে পারে।
  • গলায়: গলার ত্বক পাতলা হওয়ায় এবং কাপড়ের ঘষা লাগায় এখানে ঝুলে থাকা বা কিছুটা চ্যাপ্টা ধরনের আঁচিল বেশি হয়। এগুলো ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও বেশি থাকে।
  • হাতে: হাতের ওপরের অংশে সাধারণ শক্ত ও খসখসে আঁচিল বেশি গজায়।
  • হাতের তালুতে: হাতের তালুর আঁচিল কিছুটা শক্ত ও চ্যাপ্টা হয়। ভেতরের দিকে চেপে থাকে বলে কাজের সময় চাপ লাগলে সামান্য ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • আঙুলে: আঙুলের পিঠে বা জয়েন্টের ওপরে খসখসে ও উঁচু দানা আকারের আঁচিল দেখা যায়।
  • নখের পাশে: নখের চারপাশে বা নখের নিচে হওয়া আঁচিলগুলোকে ‘পেরিঅ্যাঙ্গুয়াল ওয়ার্ট’ বলা হয়। এগুলো শক্ত, অমসৃণ হয় এবং নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।
  • কনুইয়ে: কনুইয়ের চামড়া পুরু বা মোটা হওয়ায় এখানে খসখসে ও শক্ত টাইপের আঁচিল বেশি দেখা যায়, যা সহজে দূর হতে চায় না।
  • যৌনাঙ্গে: যৌনাঙ্গ ও তার আশপাশের সংবেদনশীল ত্বকে যেসব আঁচিল হয়, সেগুলোকে ‘জেনিটাল ওয়ার্টস’ (Genital Warts) বলে। এগুলো সাধারণত নরম, থোকা থোকা (ফুলকপির মতো) কিংবা চ্যাপ্টা আকৃতির হয়ে থাকে। এগুলো খুবই সংক্রামক।
আঙুলের আঁচিল দূর করার উপায়

আঁচিলের প্রকারভেদ

আঁচিলের ধরন সাধারণত এর আকার, গঠন এবং শরীরের কোন স্থানে হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। নিচে আঁচিলের প্রধান ধরনগুলো হলো: 

১. সাধারণ আঁচিল (Common Warts)

সাধারণত হাত, আঙুল, নখের আশপাশ ও কনুইয়ে দেখা যায়। এগুলো শক্ত, উঁচু এবং খসখসে পৃষ্ঠযুক্ত হয়। কখনো ছোট কালো বিন্দুও দেখা যেতে পারে।

২. পায়ের তলার আঁচিল (Plantar Warts)

পায়ের তলায়, বিশেষ করে গোড়ালি বা চাপ পড়ে এমন স্থানে হয়। হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় ব্যথা হতে পারে। চাপের কারণে এগুলো ত্বকের ভেতরে ঢুকে থাকা শক্ত গুটির মতো দেখাতে পারে।

৩. চ্যাপ্টা আঁচিল (Flat Warts): 

আকারে ছোট, উপরিভাগ মসৃণ ও সামান্য উঁচু। রং হালকা গোলাপি, হলদেটে বা বাদামি হয়। সাধারণত মুখ, কপাল, হাত ও পায়ে (বিশেষ করে মেয়েদের পায়ে ও পুরুষদের দাড়ির জায়গায়) একসঙ্গে অনেকগুলো দেখা যায়। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বেশি হয়। 

৪. সুতার মতো আঁচিল (Filiform Warts): 

সরু, লম্বাটে ও আঙুলের মতো বেরিয়ে থাকা আঁচিল। সাধারণত মুখ, ঠোঁট, চোখের পাতা, নাক ও গলার চারপাশে হয়। রং ত্বকের মতো। দেখতে বিশ্রী হলেও সাধারণত ব্যথা থাকে না। 

৫. নখের আশপাশের আঁচিল (Periungual Warts): 

নখের কিনারায় বা নিচে হয়। এতে ত্বক ফেটে যায়, ব্যথা হয় এবং নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন ব্যাহত হতে পারে। চিকিৎসা তুলনামূলক কঠিন ও পুনরায় হওয়ার প্রবণতা বেশি।

৬. যৌনাঙ্গের আঁচিল (Genital Warts): যৌনাঙ্গ ও এর আশপাশের ত্বকে ছোট, নরম, মাংসের রঙের বা গোলাপি গুটি হয়, অনেক সময় ফুলকপির মতো গুচ্ছাকার। এটি যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যান্য আঁচিলের তুলনায় এর চিকিৎসা আলাদা, তাই নিজে চিকিৎসা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আঁচিল হওয়ার কারণ / আঁচিল কেন হয়?

আঁচিল হওয়ার প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (Human Papillomavirus বা HPV) সংক্রমণ। এই ভাইরাস ত্বকের বাইরের স্তরে প্রবেশ করে ত্বকের কোষের বৃদ্ধি বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে ত্বকের ওপর ছোট, শক্ত বা উঁচু গুটি তৈরি হয়, যা আঁচিল হিসেবে পরিচিত। আঁচিল হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ ও ঝুঁকি রয়েছে নিচে তা উল্লেখ করা হলো:

আঁচিল হওয়ার প্রধান কারণসমূহ ও ঝুঁকি: 

১. HPV ভাইরাসের সংক্রমণ: ত্বকে HPV সংক্রমণ হলে আঁচিল তৈরি হতে পারে। HPV-এর বিভিন্ন ধরন শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচিল সৃষ্টি করতে পারে।

২. আক্রান্ত ত্বকের সংস্পর্শ: আঁচিল থাকা ব্যক্তির ত্বকের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে কিছু ধরনের HPV ছড়াতে পারে।

৩. ত্বকে কাটা বা ক্ষত থাকা: ত্বকে ছোট কাটা, আঁচড় বা ক্ষত থাকলে ভাইরাস প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

৪. আঁচিল খোঁটা বা কামড়ানো: আঁচিল খোঁটা, কামড়ানো বা বারবার স্পর্শ করার ফলে ভাইরাস ত্বকের অন্য অংশে ছড়িয়ে নতুন আঁচিল তৈরি করতে পারে।

৫. ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করা: তোয়ালে, রেজর বা নখ কাটার জিনিসের মতো ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি করলে কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।

৬. ভেজা ও আর্দ্র পরিবেশে খালি পায়ে হাঁটা: সুইমিং পুল, পাবলিক গোসলখানা বা লকার রুমের মতো ভেজা জায়গায় খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের আঁচিল সৃষ্টিকারী HPV-এর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৭. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা: যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের HPV সংক্রমণ হওয়ার বা আঁচিল দীর্ঘদিন থাকার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

আঁচিল কি ছোঁয়াচে? কিভাবে ছড়ায়?

আঁচিল একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। সাধারণত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) সংক্রমণের কারণে আঁচিল হয়। এই ভাইরাস আক্রান্ত ত্বক থেকে অন্য ত্বকে ছড়াতে পারে। তবে সব ধরনের আঁচিল একইভাবে ছড়ায় না এবং সংস্পর্শে এলেই যে আঁচিল হবে, এমনও নয়।

আঁচিল যেভাবে ছড়াতে পারে

১. সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে: আঁচিল থাকা ব্যক্তির আক্রান্ত ত্বকের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে এলে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

২. আঁচিল খোঁটা বা চুলকানোর মাধ্যমে: আঁচিল বারবার খোঁটা বা চুলকানোর ফলে ভাইরাস ত্বকের অন্য অংশে ছড়িয়ে নতুন আঁচিল তৈরি করতে পারে।

৩. ত্বকে কাটা বা ক্ষত থাকলে: ত্বকের ছোট ক্ষত বা ফাটল দিয়ে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

৪. ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি করলে: তোয়ালে, রেজর বা নখ কাটার যন্ত্র ভাগাভাগি করলে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।

৫. ভেজা জায়গায় খালি পায়ে হাঁটলে: সুইমিং পুল, গণ-গোসলখানা ও লকার রুমের মতো ভেজা জায়গায় পায়ের তলার আঁচিল সৃষ্টিকারী HPV-এর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে।

৬. যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে: যৌনাঙ্গের আঁচিল সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট ধরনের HPV যৌন সংস্পর্শ ও আক্রান্ত ত্বকের সংস্পর্শে ছড়াতে পারে।

আঁচিল, তিল ও স্কিন ট্যাগের মধ্যে পার্থক্য

ত্বকের ওপর ছোট গুটি বা দাগ দেখা দিলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, এটি আঁচিল, তিল নাকি স্কিন ট্যাগ। এগুলো দেখতে কিছুটা একই রকম হলেও কারণ, গঠন, ছড়িয়ে পড়া এবং চিকিৎসার পদ্ধতিতে ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। 

নিচে আঁচিল, তিল ও স্কিন ট্যাগের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

পার্থক্যের বিষয়আঁচিলতিলস্কিন ট্যাগ
কারণসাধারণত HPV ভাইরাসের সংক্রমণে হয়শরীরের যে কোষগুলো রং তৈরি করে (মেলানোসাইট), সেগুলো যখন এক জায়গায় জমা বা জড়ো হয়, তখন এটি তৈরি হয় ত্বকের ঘর্ষণ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত প্রবণতা 
রংত্বকের রঙের, হালকা বাদামি বা কিছুটা গাঢ় হতে পারেসাধারণত বাদামি, কালো বা ত্বকের রঙের হয়ত্বকের মতো বা কিছুটা গাঢ় 
উপরিভাগঅনেক সময় খসখসে, শক্ত ও অসমান হয়মসৃণ বা কিছুটা উঁচু হতে পারেনরম ও মসৃণ, কখনো সামান্য ভাঁজ পড়া
আকারছোট গুটি হিসেবে শুরু হয়ে বড়  হতে পারে; একাধিকও হতে পারেসমান বা উঁচু হতে পারে, আকারে ভিন্নতা দেখা যায়নরম, ঝুলে থাকা, বোঁটার মতো সরু অংশ দিয়ে ত্বকের সঙ্গে যুক্ত 
উৎপত্তি ও বয়সযেকোনো বয়সে হঠাৎ করে হতে পারে।সাধারণত জন্মগত বা শৈশব-কৈশোরে ধীরে ধীরে জন্ম নেয়। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রবণতা বাড়তে পারে
শরীরের অবস্থানহাত, আঙুল, পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হতে পারেশরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারেগলা, বগল, কুঁচকি, চোখের পাতা, স্তনের নিচে
ব্যথাচাপ লাগলে বা পায়ের তলায় ব্যথা হতে পারেসাধারণত ব্যথাহীনসাধারণত ব্যথাহীন, ঘষা লাগলে বা মোচড় খেলে ব্যথা হতে পারে
ছোঁয়াচে কি নাভাইরাসের কারণে হওয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারেসাধারণ তিল ছোঁয়াচে নয়না
চিকিৎসাপ্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ক্রায়োথেরাপি, লেজার বা অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারেসাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না; সন্দেহজনক হলে পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে অপসারণ করা হয়প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রায়োথেরাপি ও ইলেক্ট্রোসার্জারি ব্যবহার

আঁচিলের কারণে কী কী জটিলতা হতে পারে?

বেশিরভাগ আঁচিল ক্ষতিকর নয় এবং সময়ের সঙ্গে সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভুলভাবে খোঁটা বা কাটা হলে, নিচের জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে:

  • ব্যথা ও চলাফেরায় অসুবিধা: পায়ের তলা বা হাতের তালুর আঁচিলে হাঁটা, দাঁড়ানো বা কিছু ধরার সময় ব্যথা হয়। নখের পাশের আঁচিলে দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি হতে পারে।
  • রক্তপাত: ঘষা লাগলে, আঘাত পেলে বা খোঁটার ফলে আঁচিল থেকে রক্ত বের হতে পারে।
  • ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ: আঁচিল খুঁটলে বা কাটলে ক্ষত তৈরি হয়ে পুঁজ, ফোলা, লালচে ভাব ও ব্যথা হতে পারে।
  • শরীরের অন্য অংশে ছড়ানো: আঁচিল চুলকালে, খুঁটলে বা শেভ করলে ভাইরাস ছড়িয়ে নতুন আঁচিল তৈরি করতে পারে।
  • অন্যদের সংক্রমিত করা: আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।
  • দাগ থেকে যাওয়া: নিজে কাটা বা ভুল চিকিৎসার কারণে ত্বকে স্থায়ী দাগ বা গর্ত হয়ে যেতে পারে।
  • নখের ক্ষতি: নখের নিচে বা পাশে আঁচিল হলে নখের গঠন নষ্ট হতে পারে, নখ ফেটে যেতে বা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে।
  • বারবার ফিরে আসা: চিকিৎসার পরও ভাইরাস ত্বকে থেকে গেলে একই স্থানে বা আশপাশে আঁচিল আবার হতে পারে।
  • সৌন্দর্যজনিত ও মানসিক অস্বস্তি: মুখ, হাত বা দৃশ্যমান স্থানে আঁচিল হলে আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে এবং সামাজিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
  • চোখের সমস্যা: চোখের পাতায় আঁচিল হলে চোখে জ্বালা, পানি পড়া বা অস্বস্তি হতে পারে।
  • যৌনাঙ্গের আঁচিলের জটিলতা: যৌনাঙ্গে আঁচিল হলে চুলকানি, জ্বালা, রক্তপাত ও যৌন সম্পর্কে অস্বস্তি হতে পারে। কিছু HPV স্ট্রেইন নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তিদের ঝুঁকি: এদের ক্ষেত্রে আঁচিল বড়, সংখ্যায় অনেক ও চিকিৎসায় সহজে না সারার মতো হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বেশিরভাগ আঁচিল ক্ষতিকর নয় এবং অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো। যেমন, আঁচিল থেকে বারবার রক্ত পড়লে, ব্যথা তীব্র হলে বা হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে। আঁচিলের চারপাশ লাল হয়ে ফুলে গেলে, পুঁজ জমলে বা জ্বর এলে বুঝতে হবে সংক্রমণ হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

এ ছাড়া আঁচিলের আকার বা রং হঠাৎ বদলে গেলে, দ্রুত বড় হতে থাকলে বা সংখ্যায় বেড়ে গেলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। মুখ, চোখের পাতা, নখের নিচে কিংবা যৌনাঙ্গের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আঁচিল হলে নিজে নিজে কিছু করতে যাওয়া ঠিক নয়। আর ডায়াবেটিস বা এইচআইভির মতো কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের আঁচিল দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সহজে সারতে চায় না, তাই তাদের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।

ডায়াগনোসিস

আঁচিল নির্ণয়ের জন্য সাধারণত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ত্বকের আঁচিলটির আকার, রং, গঠন ও অবস্থান দেখে বুঝতে পারেন এটি আঁচিল কি না। প্রয়োজনে ডার্মোস্কোপের সাহায্যে গুটির সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য দেখা হয়। গুটি অস্বাভাবিক হলে, দ্রুত বড় হলে বা রোগ নির্ণয়ে সন্দেহ থাকলে বায়োপসি করে টিস্যু পরীক্ষা করা হতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে আঁচিলের ধরন নিশ্চিত করে উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করা যায়।

আঁচিলের আধুনিক চিকিৎসা

আঁচিলের চিকিৎসা নির্ভর করে আঁচিলের ধরন, আকার, সংখ্যা, শরীরের কোন জায়গায় হয়েছে এবং রোগীর বয়স ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। কিছু আঁচিল নিজে সেরে যায়, কিন্তু যেগুলো ব্যথা দেয়, প্রতিনিয়ত বড় হতে থাকে বা দেখতে অস্বস্তিকর, সেগুলোর চিকিৎসা করানো দরকার। কোনো একটি পদ্ধতিই সবার জন্য একই রকম কাজ করে না, আবার চিকিৎসার পর আঁচিল ফিরে আসার সম্ভাবনাও থাকে। তাই অনেক সময় একাধিক সেশন বা একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।

আঁচিলের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহ:

১. লেজার চিকিৎসা: লেজারের তীব্র আলো দিয়ে আঁচিলের কোষ ও এর ভেতরের রক্তনালি পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়। এতে আশপাশের সুস্থ ত্বকের ক্ষতি কম হয়। জেদি আঁচিল, নখের পাশের আঁচিল ও পায়ের তলার আঁচিলে এটি বেশ কার্যকর। চিকিৎসার আগে অবশ অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়, তাই ব্যথা কম লাগে।

২. প্লাজমা পেন: এই যন্ত্রের সূক্ষ্ম ডগা থেকে প্লাজমা আর্ক তৈরি হয়, যা সরাসরি আঁচিলের ওপর প্রয়োগ করে সেটি বাষ্পীভূত করে ফেলা হয়। ছোট ও মাঝারি আকারের আঁচিলে, বিশেষ করে মুখ ও ঘাড়ের মতো দৃশ্যমান জায়গায় এটি ব্যবহার করা হয়, কারণ আশপাশের ত্বকে ক্ষতি কম হয়।

৩. ইলেকট্রোক্যাটারি: উচ্চ তাপমাত্রার বৈদ্যুতিক প্রবাহ দিয়ে আঁচিল পুড়িয়ে ফেলা হয়। এটি বহুল ব্যবহৃত ও কার্যকর পদ্ধতি। অনেক সময় আঁচিল পোড়ানোর পর ওপরের অংশ চেঁছে তুলে ফেলা হয়, যাকে কিউরেটেজ বলে। এতে সামান্য দাগ থেকে যেতে পারে।

৪. কেমিক্যাল পিল: সেলিসিলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যাসিড আঁচিলের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যা আঁচিলের স্তর ধীরে ধীরে গলিয়ে ফেলে। চ্যাপ্টা আঁচিল ও মুখের আঁচিলে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। সেলিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত লোশন বা প্লাস্টার বাড়িতে নিয়মিত লাগানোর জন্য চিকিৎসক দিতে পারেন।

আঁচিল তোলার আধুনিক চিকিৎসা

যৌনাঙ্গের আঁচিলের চিকিৎসা: এর জন্য আলাদা ওষুধ ও পদ্ধতি আছে, যেমন পোডোফাইলোটক্সিন বা ইমিকুইমোড ক্রিম, ক্রায়োথেরাপি, ইলেকট্রোক্যাটারি ও লেজার। এই আঁচিল নিজে চিকিৎসা করা যায় না, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করাতে হয়। আক্রান্ত রোগী বিবাহিত হলে সঙ্গীরও পরীক্ষা করানো দরকার হতে পাদরে।

চিকিৎসার পর যত্ন: চিকিৎসার জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, চিকিৎসক যে মলম বা ড্রেসিং দিয়েছেন তা মেনে চলুন এবং ফোসকা বা পোড়া স্থানের মামড়ি জোর করে তুলবেন না। কয়েক দিন সরাসরি রোদ ও ঘষা থেকে ত্বককে বাঁচিয়ে রাখা ভালো।

বিভিন্ন পদ্ধতিতে আঁচিল চিকিৎসার আনুমানিক খরচ

আঁচিল অপসারণের খরচ নির্ভর করে চিকিৎসা পদ্ধতি, আঁচিলের সংখ্যা, আকার ও অবস্থানের ওপর। নিচে প্রতি সেশনের আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো। আঁচিলের সংখ্যা যত বেশি হবে, খরচও তত বাড়তে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতিপ্রতি সেশনে আনুমানিক খরচ
লেজার৫,০০০ – ৮,০০০ টাকা
ইলেক্ট্রোকাউটারি৩,০০০ – ৯,০০০ টাকা
প্লাজমা পেন৩,০০০ – ৮,০০০ টাকা
কেমিক্যাল পিল৪,০০০ – ৮,০০০ টাকা

এই খরচ সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট নয়, হাসপাতাল বা ক্লিনিক, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা এবং ব্যবহৃত যন্ত্রের ওপর কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। একটি আঁচিল থাকলে যে খরচ হয়, অনেকগুলো আঁচিল থাকলে বা আঁচিল বড় ও গভীর হলে সেই খরচ বেশি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে একবারের চিকিৎসায় পুরোপুরি সারে না, তখন একাধিক সেশনের প্রয়োজন হয় এবং মোট খরচও সেই অনুযায়ী বাড়ে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আঁচিলের সংখ্যা ও অবস্থা দেখে সম্ভাব্য মোট খরচ ও সেশনের সংখ্যা জেনে নেওয়া ভালো।

শশী হাসপাতাল (স্কিন কেয়ার)-এর চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন…

কখন আঁচিল নিজে থেকে চলে যায়? 

অনেক ক্ষেত্রেই আঁচিল নিজে নিজে চলে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে HPV ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে, আর ভাইরাস দমে গেলে আঁচিলও মিলিয়ে যায়। তবে এটি কত সময় নেবে, তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই। কারও কয়েক সপ্তাহে সেরে যায়, কারও কয়েক মাস, আবার কারও ক্ষেত্রে বছর পেরিয়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের আঁচিল তুলনামূলক দ্রুত সেরে যায়। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আঁচিল দুই বছরের মধ্যে নিজে থেকেই চলে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগে এবং অনেক আঁচিল বছরের পর বছর থেকে যায়।

কোন আঁচিল নিজে যায় না? 

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে আঁচিল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
  • পায়ের তলা বা নখের পাশে হওয়া আঁচিল সারতে বেশি সময় লাগতে পারে।
  • আঁচিলের সংখ্যা বেশি হলে বা আকার বড় হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
  • বারবার আঁচিল খোঁটা, কাটা বা কামড়ানোর অভ্যাসে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • যৌনাঙ্গের আঁচিল নিজে থেকে কমে গেলেও HPV ভাইরাস শরীরে থেকে যেতে পারে এবং আঁচিল আবার দেখা দিতে পারে।

অপেক্ষা করলে কী হতে পারে: আঁচিল ব্যথাহীন ও ছোট থাকলে অনেকে কিছুদিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু এই সময়ে আঁচিল বড় হতে পারে, শরীরের অন্য অংশে ছড়াতে পারে বা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই অপেক্ষার সময় আঁচিল খোঁটা থেকে বিরত থাকা, ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা রাখা এবং ত্বক শুকনো ও পরিষ্কার রাখা জরুরি।

আঁচিল চলে গেলেও ভাইরাস কিছুদিন ত্বকে থেকে যেতে পারে, তাই একই জায়গায় বা আশপাশে আবার আঁচিল দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

আঁচিল কাটলে বা খুঁটলে কী হতে পারে?

আঁচিল নিজে থেকে কাটা, খোঁটা বা টেনে তোলার চেষ্টা করলে ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে। এতে রক্তপাত, সংক্রমণ এবং স্থায়ী দাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আঁচিল সৃষ্টিকারী HPV ভাইরাস আক্রান্ত স্থান থেকে ত্বকের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে নতুন আঁচিলও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মুখ, চোখের পাতা, নখের আশপাশ ও যৌনাঙ্গের আঁচিল নিজে থেকে অপসারণের চেষ্টা করা উচিত নয়। আঁচিল অপসারণের প্রয়োজন হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

আঁচিল প্রতিরোধ করার উপায়

আঁচিল ভাইরাসজনিত, তাই সংক্রমণের সুযোগ কমিয়ে দিলেই এর ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়। কিছু অভ্যাস মেনে চললে নিজে আঁচিল থেকে বাঁচা যায়, আবার অন্যের মধ্যে ছড়ানোও ঠেকানো যায়।

  • হাত পরিষ্কার রাখুন: নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন, বিশেষ করে আঁচিল আছে এমন কাউকে বা কোনো আঁচিল ছোঁয়ার পর।
  • আঁচিল খুঁটবেন না: নিজের আঁচিল খোঁটা, কাটা বা চুলকানো থেকে বিরত থাকুন। এতে ভাইরাস শরীরের অন্য অংশে ছড়ায়।
  • ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করবেন না: তোয়ালে, রেজর, নেইল কাটার, জুতা ও মোজা আলাদা রাখুন।
  • গণ-পরিসরে খালি পায়ে হাঁটবেন না: সুইমিং পুল, জিম, লকার রুম ও গণ-গোসলখানায় স্যান্ডেল বা স্লিপার পরুন।
  • ত্বক শুকনো ও অক্ষত রাখুন: ভেজা ও নরম ত্বকে ভাইরাস সহজে ঢোকে। পা ও হাত শুকনো রাখুন এবং ত্বক ফেটে গেলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ছোট ক্ষত হলেও ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন।
  • নখ কামড়ানো ও ত্বক খোঁটার অভ্যাস ছাড়ুন: এতে ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে ভাইরাস ঢোকার পথ তৈরি হয়।
  • আঁচিল ঢেকে রাখুন: আঁচিল থাকলে ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে রাখলে অন্যের কাছে বা নিজের অন্য অংশে ছড়ানোর সুযোগ কমে।
  • রেজর সাবধানে ব্যবহার করুন: আঁচিলের ওপর দিয়ে শেভ করবেন না। এতে ত্বক কেটে গিয়ে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখুন: নিয়মিত সুষম খাদ্য খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো, ব্যায়াম করা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা, যা শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্ত রাখে।
  • নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখুন: কনডম ব্যবহার করুন এবং একাধিক সঙ্গী এড়িয়ে চলুন। এতে যৌনাঙ্গে আঁচিল হওয়ার ঝুঁকি কমে।
  • HPV টিকা: এই টিকা যৌনাঙ্গের আঁচিল সৃষ্টিকারী প্রধান HPV স্ট্রেইন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর। সাধারণত কৈশোরে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে পারেন।

উপসংহার

আঁচিল সাধারণত নিরীহ হলেও সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আঁচিলের ধরন, আকার ও অবস্থান অনুযায়ী লেজারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসার আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করা উচিত। আঁচিল নিজে থেকে কাটা বা খোঁটার পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা নিলে ত্বকের ক্ষতি ও দাগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ত্বকে কোনো গুটি দ্রুত বড় হলে, রং পরিবর্তন করলে বা রক্তপাত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

আঁচিল সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আঁচিল কেন হয়?

আঁচিল হয় হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) নামের ভাইরাসের সংক্রমণে। ভাইরাস ত্বকের ওপরের স্তরে ঢুকে কোষকে অস্বাভাবিক দ্রুত বাড়ায়, ফলে ত্বকে গুটি তৈরি হয়। ত্বকের কাটা-ছেঁড়া, ভেজা পরিবেশ ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঝুঁকি বাড়ায়।

২. আঁচিল কি ছোঁয়াচে?

হ্যাঁ, আঁচিল ছোঁয়াচে। সরাসরি স্পর্শে বা তোয়ালে, রেজর, জুতার মতো ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। নিজের আঁচিল খুঁটলে সেটি শরীরের অন্য জায়গাতেও ছড়ায়। তবে সংস্পর্শে আসা সবার আঁচিল হয় না।

৩. আঁচিল কি ক্যানসারে পরিণত হয়?

সাধারণ আঁচিল ক্যানসারে রূপ নেয় না। তবে যৌনাঙ্গের আঁচিলের কিছু HPV স্ট্রেইন জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই নারীদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো ভালো।

৪. চিকিৎসার পর কি আঁচিল আবার হতে পারে?

হ্যাঁ, পারে। চিকিৎসায় আঁচিল সরে গেলেও ভাইরাস ত্বকে থেকে গেলে একই জায়গায় বা আশপাশে আবার আঁচিল দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখা ও ত্বক পরিষ্কার-শুকনো রাখলে এই ঝুঁকি কমে।

৫. ঢাকায় আঁচিল রিমুভ করতে কোন ডাক্তারের কাছে যাব?

চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ (ডার্মাটোলজিস্ট) আঁচিলের চিকিৎসা করেন। যৌনাঙ্গের আঁচিলের ক্ষেত্রে অনেক সময় গাইনোকোলজিস্ট বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শও লাগতে পারে।

৬. ঢাকায় লেজারে আঁচিল রিমুভের খরচ কত?

সাধারণত প্রতি সেশনে ৫,০০০–৮,০০০ টাকা লাগে। তবে আঁচিলের সংখ্যা, আকার ও স্কিনকেয়ার সেন্টারভেদে খরচ কমবেশি হতে পারে।

৭. লেজারে আঁচিল রিমুভ করলে কি ব্যথা লাগে?

চিকিৎসার আগে আঁচিলের অংশে অবশ করার ইনজেকশন দেওয়া হয়, তাই সাধারণত তীব্র ব্যথা হয় না। পরে সামান্য জ্বালা বা ব্যথা থাকতে পারে, যা সহনীয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়।

Search

Recent Post

আঁচিল কী? শরীরের কোথায় হয়, কারণ, প্রকারভেদ ও আধুনিক চিকিৎসা...

Under Eye Dark Circle At a Glance Under eye dark...

HydraFacial Aftercare: How to Take Care of Your Skin for...

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়: কী করবেন,...

Waking up to puffiness under your eyes is frustrating on...

Our Treatments

Durga Puja Glowing Skin Offer